নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার পর এবার রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেতে পারে ৩৫টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ১১টি এবং জোটগতভাবে মোট ১৩টি আসন।
জামায়াত-এনসিপি জোটে ইতোমধ্যে নারী আসন বণ্টন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটগতভাবে প্রাপ্ত অতিরিক্ত দুইটি আসন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-এর নারী নেত্রীদের দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অঞ্চল ও অভিজ্ঞতা
জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, নারী এমপি মনোনয়নে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব এলাকায় দলের কোনো নির্বাচিত এমপি নেই, সেসব অঞ্চল থেকে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পূর্বে সংরক্ষিত নারী আসনে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন অভিজ্ঞ নেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।
দলটির সম্প্রতি ঘোষিত ৮৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই অধিকাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া পেশাজীবী নারীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
আলোচনায় যেসব নাম
জামায়াতের নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, ডা. আমিনা বেগম রহমান, শাহান আরা বেগম ও ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নীসহ আরও কয়েকজন নেত্রী।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান-এর স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম অতীতে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন। এছাড়া নায়েবে আমিরের স্ত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
জোটের অংশ হিসেবে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমীন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুর নামও শোনা যাচ্ছে।
এখনো শুরু হয়নি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।
তিনি জানান, অতীতে মনোনীতরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন—সেই অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় থাকবে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ও সংসদের বাইরে নারী সমাজসহ দেশের মানুষের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন যোগ্য প্রার্থীদেরই বাছাই করা হবে।
দলীয় নারী নেতৃত্বের বাইরে পেশাজীবী নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।