1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের ‘ক্যাডার’ থেকে বিএনপির ‘নেতা’: তুরাগে ক্যান্টিন সোহেলের ত্রাসের রাজত্ব

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, টানা ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা। ছিলেন তুরাগ থানা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি এবং ৫২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। বিগত সরকারের আমলে এমপি হাবিব হাসানের ফুফাতো ভাই কামালের সাথে মিলে এলাকায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। অথচ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে সেই ‘ক্যান্টিন সোহেল’ এখন রাতারাতি বিএনপি নেতা! বর্তমানে তিনি তাঁতী দলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এই ভোল পাল্টানো নেতার অত্যাচারে তুরাগের বাউনিয়া এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা।

### আওয়ামী লীগ আমলে অপকর্মের খতিয়ান

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বাউনিয়া এলাকায় ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহেল রানা ওরফে ক্যান্টিন সোহেলের হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে পুলিশে দেওয়া এবং গায়েবি মামলায় ফাঁসানো ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। গত জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তিনি রাজপথে ছিলেন মারমুখী ভূমিকায়। অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট উত্তরার আজমপুরে ছাত্র-জনতার ওপর নৃশংস হামলায় তিনি সরাসরি অংশ নেন এবং অস্ত্র হাতে সাধারণ মানুষকে জখম করেন।

### ভোল পাল্টে তাঁতী দলে পদায়ন

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দিলেও কিছুদিনের মধ্যেই কৌশলে রাজনীতির রঙ বদলান সোহেল। স্থানীয়রা জানান, বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি রাতারাতি জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়কের পদ বাগিয়ে নেন। এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আবারও শুরু করেছেন জমি দখল ও চাঁদাবাজি। আওয়ামী লীগ আমলে নির্যাতিত বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরাই এখন তার হাতে নতুন করে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

### নেপথ্যে ‘দুই প্রভাবশালী’ অভিভাবক

থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের দাবি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের ছত্রছায়ায় সোহেল এলাকায় দাপট দেখাচ্ছেন। এই দুই নেতার প্রভাবে সোহেলের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তৃণমূল নেতাদের প্রশ্ন— কৃষক লীগের শীর্ষ পদে থাকার অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও একজন ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ কীভাবে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ পান?

### নিজের মুখেই স্বীকারোক্তি

দুই দলের পদে থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোহেল রানা অকপটে সব স্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন:

> “আমি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতাম। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা আপা ও এমপি হাবিব হাসানের সাথে কাজ করেছি। এখন সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”

### আতঙ্কে এলাকাবাসী

এলাকাবাসীর দাবি, সোহেলের নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সোহেলের হাত থেকে আমাদের মুক্তি নেই। আগে ছিল নৌকার ডাণ্ডা, এখন ব্যবহার করছে ধানের শীষের ঝাণ্ডা। মানুষ শুধু দল পরিবর্তন দেখেছে, কিন্তু তার অত্যাচার কমেনি।”

এই অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীর হাত থেকে দলকে বাঁচাতে এবং বাউনিয়া এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com