নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিলেটের পবিত্র মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়ের সূচনা করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে সিলেটে পৌঁছে প্রথমেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং নফল নামাজ আদায় করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।
এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম এলাকায় অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি ‘রহমত মঞ্জিল’-এ যান। রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানের আগমনের মধ্য দিয়ে পুরো সিলাম এলাকা পরিণত হয় এক আবেগঘন রাজনৈতিক জনসমুদ্রে। আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুলেল শুভেচ্ছা, স্লোগান ও ভালোবাসায় তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় উৎসবমুখর উচ্ছ্বাস ও নতুন প্রত্যাশার আলো।
শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে তারেক রহমান যোগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে। দোয়া শেষে তিনি আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংলাপে, যেখানে নেতাকর্মীরা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
সিলেট অঞ্চলে তারেক রহমানের এই উপস্থিতিকে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস নতুন করে জাগ্রত হয়েছে।
জামাই হিসেবে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে সিলাম এলাকায় ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ। ডা. জুবাইদা রহমানের পরিবার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্যোগে নেওয়া হয় বিশাল আয়োজন। প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মী ও অতিথির আপ্যায়নের জন্য রান্না করা হয় ৪৩ হাড়ি খাবার। এই আয়োজনকে স্থানীয়রা দেখছেন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে।
এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান আবেগী কণ্ঠে বলেন,
“জোবায়দা রহমান যেমন আপনাদের মেয়ে, আজ থেকে আমিও আপনাদের সন্তান। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করবেন।”
তার এই বক্তব্যে যেমন পারিবারিক সম্পর্কের আবেগ ফুটে ওঠে, তেমনি স্পষ্ট হয়ে ওঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার রাজনৈতিক আহ্বান। সিলেট থেকেই নির্বাচনী মাঠে শক্ত বার্তা ছুড়ে দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সফরের মধ্য দিয়েই তারেক রহমানের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হলো। খুব শিগগিরই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও জনসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। সিলেটের পর দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকেও বিএনপির নির্বাচনী যাত্রা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সিলেটের মাটি থেকে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত সফর নয়—বরং এটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি, আবেগ ও দিকনির্দেশনার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।