এড এম শাহ্ জালাল সাইফুল,দাউদকান্দি (কুমিল্লা) :
আজ বাদ আছর দাউদকান্দির ব্যস্ততম এলাকা গৌরীপুর মোড়ে চায়ের আড্ডায় বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রাণখোলা আলাপে মিলিত হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। কোনো মঞ্চ, মাইক বা আনুষ্ঠানিকতার বালাই নেই—ছিল শুধু জনগণ আর তাদের অকপট কথা বলার অবাধ সুযোগ।
চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে ওঠে জীবনের বাস্তবতা—দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিচারহীনতা, ভোটাধিকার হরণ এবং রাজনীতির প্রতি মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রত্যাশা। ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মনোযোগ দিয়ে শোনেন, প্রশ্ন করেন, মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে নিতে চান রাষ্ট্রের ব্যর্থতার গভীরতা। এই সংলাপ ছিল একতরফা বক্তব্য নয়; ছিল জনগণের কথা বলার, নেতার শোনার এক আন্তরিক প্রয়াস।
এই চা-আড্ডা আসলে প্রতীকী নয়—এটি বিএনপির রাজনীতির মৌলিক দর্শনেরই প্রতিফলন, যেখানে রাজনীতি মানে জনগণের কাছাকাছি থাকা, ক্ষমতার নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যখন শাসকগোষ্ঠী দেয়ালঘেরা সভা আর প্রশাসনিক প্রটোকলে বন্দি, তখন গৌরীপুর মোড়ের এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতির আসল শক্তি আসে রাস্তায়, চায়ের টেবিলে, মানুষের চোখের ভাষা থেকে।
স্থানীয়রা জানান, একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়েও এমন সহজভাবে পাশে বসে কথা বলা তাদের কাছে বিরল অভিজ্ঞতা। এতে মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে—যে রাজনীতি এখনও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি, এখনও শোনার মানুষ আছে।
গৌরীপুর মোড়ের এই চায়ের আড্ডা তাই শুধু এক বিকেলের ঘটনা নয়; এটি সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেওয়া একটি নীরব রাজনৈতিক বার্তা—গণতন্ত্র ফিরবে জনগণের হাত ধরেই, আর সেই পথে হাঁটতে হলে আগে জনগণের কথা শুনতে হবে।