বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : দলের দুঃসময়ে যখন প্রভাবশালী অনেকেই আঁতাতের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন—ঠিক তখনই তৃণমূলের হাল ধরেছিলেন মামুন হাসান। সতেরো বছরের টানা দমন-পীড়নে ৪২৬টি মামলা নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি আগলে রেখেছেন মিরপুর–কাফরুলের নেতা-কর্মীদের। ক্রসফায়ার তালিকায় নাম উঠে আসার পরও ফেরারি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু আদর্শ থেকে সরে যাননি।
আজ সেই মামুন হাসানই অবমূল্যায়নের মুখে। নিজের জন্মভিটা, বাবার বাড়ি, নানার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি—সব মিলিয়ে যে আসনটি তাঁর রাজনৈতিক শেকড়ের প্রতীক, সেখানেই তিনি মনোনয়ন পেলেন না। তবু রাজনীতির পাঠ তিনি বদলাননি। অভিমান আর আক্ষেপ বুকে চেপে রেখে মাঠে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছেন দলীয় শপথ—
“ভোট দেবো কিসে? ধানের শীষে!”
এটাই ত্যাগী রাজনীতির ভাষা। এটাই আপসহীনতার পরিচয়। মামুন হাসান কেবল একজন নেতা নন; তিনি সময়ের সাক্ষ্য। দলের জন্য যখনই অন্ধকার নেমে এসেছে, তখনই তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিরপুর–কাফরুলে। প্রয়োজন হলে বুক চিতিয়ে স্লোগান তুলেছেন—
“বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।”
এই সম্পাদকীয় কোনো ব্যক্তিপূজা নয়; এটি ত্যাগের মূল্যায়নের দাবি। দলীয় রাজনীতিতে মনোনয়ন আসবে-যাবে, কিন্তু ইতিহাস লিখে যায় ত্যাগীরা। ভবিষ্যতের সংকটে আবারও যদি দলের পাশে ঢাল দরকার হয়, মিরপুর–কাফরুল জানে—মামুন হাসান থাকবেন সামনে, আদর্শের পতাকা উঁচু করে।