দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন আবারও পরিণত হলো মৃত্যুকূপে। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন অন্তত ৪ জন। দগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন। নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা ব্যর্থতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন আর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতারই নির্মম পরিণতি এই দুর্ঘটনা।
যেভাবে ঘটলো মৃত্যু-দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘সেন্টমার্টিন পরিবহন’-এর একটি লোকাল বাস বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল বাসের নিচে চাপা পড়ে। তীব্র ঘর্ষণ থেকে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাসজুড়ে। আগুনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা বাসটি কার্যত একটি চলন্ত আগুনের খাঁচায় পরিণত হয়।
বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে দরজা-জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হুড়োহুড়ি, অপ্রস্তুত অবস্থা আর জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে বহু যাত্রী দগ্ধ হন। কেউ কেউ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
চিকিৎসা পরিস্থিতি: হাসপাতালেই যুদ্ধ
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন ও সহকারী চিকিৎসক শামীম উদ্দিন জানান, ৪ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অন্তত ৩০–৩৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়েই আহতদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন—যা আবারও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের বক্তব্য
খবর পেয়ে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
প্রশ্ন থেকেই যায়
একই মহাসড়কে বারবার প্রাণহানির পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেই?
কেন লোকাল বাসে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই?
ফিটনেস, চালকের দক্ষতা আর তদারকি—সবই কি কেবল কাগজে?
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ঘটনা নয়, এটি সড়ক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার আরেকটি রক্তাক্ত দলিল। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন মৃত্যুমিছিল থামবে না—এটাই আজ দাউদকান্দির আগুনের স্পষ্ট বার্তা।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।