নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো অর্জিত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। আর সংসদীয় ও সাংবিধানিক রাজনীতির সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— প্রতিটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং মানুষের মধ্যে গণচেতনা জাগ্রত করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গণমাধ্যম ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা পুনরায় শুরু করেন। পরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া–র নেতৃত্বে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিটি পর্যায়ে গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্জিত গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক ধারাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদ নেতা তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই অর্জনকে স্থায়ী রূপ দিতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি সুযোগ না পায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে পরিবেশ ভবিষ্যতেও বজায় রাখা হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।