নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম মৃত্যুবরণ করা আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ এপ্রিল। এই রায়কে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের বিচারিক পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল মামলার রায় ঘোষণার জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত বছরের ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সময় ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
২৫ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র অবস্থায় পুলিশের গুলিতে তার আহত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন আরও জোরদার হয় এবং কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন গতি পায়।
পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ধারাবাহিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আন্দোলন দমনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগে সাবেক ক্ষমতাসীন দল, তাদের সহযোগী সংগঠন এবং প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এসব অভিযোগের বিচার বর্তমানে দেশের দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারই নয়, বরং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হবে