এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন ও নির্বিচার গুলিবর্ষণের বিভীষিকাময় বাস্তবতার মধ্যেও ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থান থামেনি। বরং সেই অগ্নিপরীক্ষার সময়ই ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে খোলা বুকে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন ছাত্রদল কর্মী মুত্তাকিন। গুলির মুখে দাঁড়িয়ে উড়ানো সেই পতাকা ছিল নিছক কাপড় নয়—তা ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অস্তিত্ব রক্ষার এক অকুতোভয় ঘোষণাপত্র।
শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু, শিক্ষার্থীদের রক্তে রাজপথ ভিজে যাওয়ার ভয়াবহ সময়েও মুত্তাকিনের সেই দৃশ্য মুহূর্তেই দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইরত জনগণের কাছে তা পরিণত হয় প্রতিরোধের প্রতীকে, আন্দোলনের নৈতিক শক্তিতে। এক তরুণের বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো অবস্থান পুরো জাতিকে আন্দোলনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী জাতীয় পতাকাটি আজ সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন মুত্তাকিন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; এটি ছাত্র–জনতার রক্ত, সাহস ও আত্মত্যাগের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হস্তান্তরের প্রতীক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ছাত্রসমাজ আর নীরব দর্শক নয়। যারা বন্দুকের নলের জোরে রাষ্ট্র কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ থামানো যাবে না। কাজলা ফ্লাইওভারের সেই পতাকা আজও ঘোষণা করছে—ভয় নয়, আত্মসমর্পণ নয়; রাজপথেই নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ।