এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতা ঢাকতে যখন ক্ষমতাসীনরা প্রশাসন, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখে, তখন রাজনীতির আসল শক্তি আবারও ফিরে যায় মানুষের হৃদয়ে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—ক্ষমতা টিকে থাকে জোরে, কিন্তু নেতৃত্ব টিকে থাকে ভালোবাসায়।
আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় জনগণ আর প্রতিশ্রুতি চায় না, চায় সম্মান। তারা ভিক্ষা চায় না, চায় ন্যূনতম মানবিক আচরণ। এই সহজ সত্যটি যারা বুঝতে পেরেছে, তারাই ভবিষ্যতের রাজনীতির চালিকাশক্তি। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়—এটি একটি ধারাবাহিকতা, একটি উত্তরাধিকার, যা গড়ে উঠেছে মাটি ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে।
মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলার মানুষের হৃদয়ে যে আস্থা ও ভালোবাসার ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন, তা কোনো দলীয় প্রচারণার ফল ছিল না—তা ছিল মানুষের কষ্ট বোঝার রাজনীতি। সেই রাজনীতির উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান কেবল একটি নাম নন, তিনি আজ জনমানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীক। মানুষ তাঁকে দেখে ক্ষমতার অহংকার নয়, দেখে আপনজনের ছায়া।
অন্যদিকে, দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া—তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে দমন নয়, দরদ লাগে। কারাবরণ, নিপীড়ন কিংবা ষড়যন্ত্র—কোনোটিই তাঁর অবস্থানকে নড়াতে পারেনি, কারণ তাঁর শক্তি ছিল মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আজ যখন রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাজনীতি করার সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন বিএনপির নেতৃত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় হৃদয়ের রাজনীতি। এ দেশ বন্দুক, বুলডোজার কিংবা ফরমান দিয়ে নয়—চলে মানুষের সম্মতি ও ভালোবাসায়।
এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জনমানুষের হৃদয় যেখানে, আগামী দিনের বাংলাদেশও সেখানেই।