দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রকাশ্য সড়কে, ফেসবুক লাইভে দম্ভ দেখিয়ে, জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বারোপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় নেতা আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে তার দুই পা থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বর হামলা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর নয়—এটি ভিন্নমতের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি সশস্ত্র আঘাত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী আবুল বাশার বাদশার ওপর আদর্শ পরিবর্তনের জন্য লাগাতার চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জীবননাশের উদ্দেশ্যে টার্গেট করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্য হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ১১ তারিখ রাতে। অভিযোগ রয়েছে, বারোপাড়া ইউনিয়নের সদস্য ও সাংবাদিক আনিছুর রহমান খানকে নিজ বাসায় গাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে আবুল বাশার বাদশার গাড়ির গতিরোধ করে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং পরিকল্পিতভাবেই এই নৃশংস হামলা চালায়।
প্রথমে গাড়ির চালককে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এরপর গাড়ির ব্যাকডালা খুলে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। একপর্যায়ে ফেসবুক লাইভে হামলার তাণ্ডব সম্প্রচার করতে করতে আবুল বাশার বাদশাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তার দুই পা এমনভাবে থেঁতলে দেওয়া হয়, যাতে তিনি আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার সময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন,
“ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশের উপস্থিতিতেও বাধা—আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও আহত আবুল বাশার বাদশাকে উদ্ধার করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পরে গ্রামবাসীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবুল বাশার বাদশাকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার দুই পায়ের মারাত্মক জখম ও অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এ রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় দাউদকান্দি জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ভিন্নমত দমন ও জোরপূর্বক রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী অপচেষ্টা।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।