ইগো নয়, ইনক্লুশন—এটাই জিয়া পরিবারের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝির নাম—জিয়া পরিবারকে শুধু বিএনপির ভেতরে বন্দি করে দেখা।
এই পরিবার কোনোদিনই ক্ষুদ্র দলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনি। তারা চেয়েছে বড় জায়গা, বড় মানুষ, বড় নেতৃত্ব।
আর সেই কারণেই তাদের রাজনীতি অনেকের চোখে “অস্বস্তিকর”, অনেকের কাছে “বোধগম্য নয়”।
জিয়াউর রহমানের মুখের ওপর দাঁড়িয়ে যিনি একসময় প্রকাশ্যে অপমান করেছিলেন, সেই ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরে ছাত্রদলের নেতা হয়েছেন, আজ তিনি বিএনপির ১ নম্বর স্থায়ী কমিটির সদস্য।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে যিনি প্রকাশ্যে জঘন্য কটূক্তি করেছিলেন, সেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ম্যাডাম এক বছরের মাথায় নিজের উপদেষ্টা বানিয়েছেন।
তারেক রহমানের রাজনীতির যিনি ছিলেন সবচেয়ে কট্টর সমালোচক, সেই মেজর (অব.) হাফিজকে খালেদা জিয়া নয়—খোদ তারেক রহমানই স্থায়ী কমিটিতে এনেছেন।
এই উদাহরণগুলো দুর্ঘটনা না।
এগুলোই নীতি।
এগুলোই লিগ্যাসি।
কারণ জিয়া পরিবারের রাজনীতিতে পারসোনাল ইগো নামে কোনো শব্দ নাই।
এখানে শত্রু আর বন্ধু চিরস্থায়ী না—চিরস্থায়ী একটাই জিনিস, বাংলাদেশ।
আজ যারা নৈতিকতার লেকচার দেয়, তারা কি ভুলে গেছে অরাজনৈতিক আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার কথা?
সব চোখরাঙানি, রাষ্ট্রীয় চাপ আর অঘোষিত হুমকি উপেক্ষা করে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে যে জনসমুদ্র নেমেছিল, সেটা কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সাজানো ভিড় ছিল না।
ওটা ছিল ভালোবাসা।
ওটা ছিল বিশ্বাস।
ওটা ছিল মানুষের মনের ভেতরের জমে থাকা আবেগের বিস্ফোরণ।
এই ভালোবাসা কেন আসে?
কারণ মানুষ জানে—এই পরিবার ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, মানুষের জন্য রাজনীতি করে।
আর এখনকার বিতর্ক?
সোজা বাংলায় বলি—
মগবাজারে বিএনপির কোনো নেতাকে প্রস্রাব করতেও দেখিনি।
কিন্তু টিএসসিতে দাঁড়িয়ে “লন্ডন না ঢাকা” স্লোগান দেওয়া একঝাঁক সুবিধাবাদী রাজনৈতিক প্রস্টিটিউটদের ঠিকই দেখেছি—
সকালে লন্ডন,
দুপুরে গুলশান,
আর বিকেলে পল্টনে দৌড়ঝাঁপ করতে।
এরা আদর্শ বদলায় না—
এরা শুধু ঠিকানা বদলায়।
পাবলিক বোকা না।
পাবলিক সব দেখে, সব বোঝে, সব মনে রাখে।
ইতিহাসের আদালতে সবচেয়ে বড় সাক্ষী কিন্তু জনগণই।
বেশি কথা বাড়ানোর দরকার নাই।
শুধু দুটো লাইন মনে করিয়ে দিলেই যথেষ্ট—
গেম এখনো শেষ হয়নি।
মাদার অব ডেমোক্রেসি বলেছিলেন—
“ভাইয়াকে দেখে রেখো।”
আর ৩০০ ফিটের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দেশনায়ক বলেছিলেন—
“I HAVE A PLAN.”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্ল্যান যারা করে, তারা চুপচাপ করে।
আর যখন সময় আসে—
তখন শব্দ না, ঢেউ ওঠে।
ইতিহাস অপেক্ষা করে না।
সময়ই ঠিক করে দেয়—কে মৌসুমি আর কে লিগ্যাসি।