বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনা হলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষ করে বাহরাইন-এর মতো দেশগুলোকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় যাতে ইরান সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে।
তেহরানের দাবি, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন ‘আইনি শাসন’ চালুর পরিকল্পনা করছে ইরানের সংসদ।
এ বিষয়ে ইব্রাহিম আজিজি জানান, একটি বিল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই তা আইনে পরিণত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বা ইসরায়েলগামী কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্যান্য দেশের জাহাজকে এই পথ ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট ‘টোল’ দিতে হবে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এমন উত্তেজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।