বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন মাস ধরে আটকে আছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক বুধবার (২৭ মে) সাগরে ভাসমান অবস্থায়ই পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় ও ঈদ উদযাপন করেছেন।
পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা এসব নাবিকের জন্য এটি ছিল টানা দ্বিতীয় ঈদ জাহাজে কাটানোর অভিজ্ঞতা। এর আগে ঈদুল ফিতরও তাঁদের কাটাতে হয়েছিল সমুদ্রে। তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে জাহাজটি।
জাহাজে থাকা এক নাবিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন সাগরে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁদের থাকলেও এমন যুদ্ধাবস্থার মুখোমুখি আগে কখনো হতে হয়নি। সার্বক্ষণিক ড্রোন ও মিসাইল হামলার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। পরিবার থেকেও প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হচ্ছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেছেন, জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। নাবিকদের সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদে জাহাজ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বিএসসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং জাহাজটি আটকা পড়ে।
গত ১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষে জাহাজটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। তবে হরমুজ প্রণালির মুখ পর্যন্ত গিয়েও বারবার ফিরে আসতে হয়েছে। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল ইরান সরকার পারাপারের অনুমতি না দেওয়ায় জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন অথবা মোজাম্বিকে যাওয়ার কথা থাকলেও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পুরো যাত্রা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।