নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে এই খাত প্রচলিত বা এনালগ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধির এই সময়ে খাতটিকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ক্রেতাবান্ধব করতে ডিজিটালাইজেশন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিয়েল এস্টেট খাতে তথ্যসমৃদ্ধ প্রেজেন্টেশন ও ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশনের গুরুত্ব নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন Nexsphere–এর প্রতিষ্ঠাতা ও রিয়েল এস্টেট মার্কেটিং কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আকাশ চন্দ্র দাস।
তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন বলতে শুধু অনলাইনে বিজ্ঞাপন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াকে বোঝায় না। বরং একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করাই এর মূল লক্ষ্য।
তার মতে, রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ডিজিটালাইজেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভিজ্যুয়ালাইজেশন। অনেক সময় কেবল নকশা দেখে একজন ক্রেতার পক্ষে প্রকল্পের পূর্ণ চিত্র কল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ডিজিটাল থ্রিডি ভিউ, এরিয়াল ভিউ, ভবনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নকশা, আশপাশের পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরলে ক্রেতারা প্রকল্প সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।
তিনি আরও বলেন, ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্রেতাই কোনো প্রজেক্ট সম্পর্কে জানার আগে অনলাইনে তথ্য খোঁজেন। তাই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, ছবি ও ভিডিও থাকলে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। একই সঙ্গে অনলাইন মিটিং, ভিডিও কল বা ভার্চুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসী ক্রেতাদের সঙ্গেও সহজে যোগাযোগ করা সম্ভব।
ইঞ্জিনিয়ার আকাশ চন্দ্র দাস জানান, ডিজিটাল কমিউনিকেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রজেক্টের অগ্রগতি, গুরুত্বপূর্ণ আপডেট বা নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ নিয়মিতভাবে ক্লায়েন্টদের জানানো যায়। ইমেইল, মেসেজ বা ভিডিও আপডেটের মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করলে ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সহজভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ফাউন্ডেশন সিস্টেম, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও আলো-বাতাসের প্রবাহের মতো বিষয়গুলো গ্রাফিক্স, ডায়াগ্রাম বা ব্যাখ্যামূলক ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরলে ক্রেতারা প্রকল্প সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হন।
তার মতে, একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে শুধু লোকেশন বা দাম নয়, বরং ভবনের গঠন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব বিষয় তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা গেলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
তিনি জানান, তার টিমে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার সদস্যরা রয়েছেন, যারা প্রজেক্টের টেকনিক্যাল দিক, লোকেশন অ্যানালাইসিস এবং বাস্তব অবস্থা যাচাই করে তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্ট প্রস্তুত করেন। এতে প্রেজেন্টেশনগুলো শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তারা পেশাদারিত্ব ও ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টির সুনাম অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আধুনিক মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রমোশন সল্যুশনের মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রিয়েল এস্টেট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিজিটালাইজেশন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।