নিজস্ব প্রতিবেদক : একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযোগ ওঠা কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির গাড়িচালক ও বাংলাদেশ সরকারি গাড়ি চালক সমিতি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন এবং মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, প্রধান সহকারী (প্রশাসন ও অর্থ), খামারবাড়ি—তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০৭/৩২৬/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তাদের ২০২ ও ২০৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার বা হাজতে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সম্প্রতি তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মুরাদুল হাসান, উপ-পরিচালক লিসাসা, প্রধান সহকারী শাহাদাত হোসেন এবং প্রটোকল অফিসার আমিনুর রহমান খান। তাদের ছত্রছায়ায় কিছু গাড়িচালক ও কর্মচারী অর্থের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, খামারবাড়ি থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে খামারবাড়িতে বদলির নামে অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। এমনকি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে সারা দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে আরো কাজ করেছেন মো. ইব্রাহিম, মো. শামীম রেজা, মো. জব্বার, মোঃ শরিফ আহমেদ, মোঃ শরিফুল ইসলাম ও মো: আহসান হাবিব—যারা পেশায় গাড়িচালক।
এ ধরনের অনিয়মের কারণে খামারবাড়ির সাধারণ কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা দপ্তরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।