শাহাদাত হোসেন তালুকদার , দাউদকান্দি :
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু দেওয়ানের ছেলে আলমগীর দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। দেশে তার স্ত্রী ও তিনটি ছোট মেয়ে রয়েছে। প্রবাসে থাকার সময় তিনি নিয়মিত স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে সংসারের খরচ বাবদ টাকা পাঠাতেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি দেশে এসে এক মাস অবস্থান করে পুনরায় প্রবাসে ফিরে যান।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে পাশের বাড়ির হাবিব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীর দেওয়ানের স্ত্রী স্বপ্নার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে স্বপ্নার ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় হাবিব। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাবিব আলমগীর দেওয়ানের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে, পালিয়ে যাওয়ার পর আলমগীর দেওয়ানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এতে করে প্রবাসী আলমগীর দেওয়ান ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ইছাপুর গ্রামের দেওয়ান বাড়ি এলাকার মসজিদের সামনে শতাধিক নারী-পুরুষ ও স্থানীয় মুরুব্বিদের অংশগ্রহণে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা এবং তিনটি শিশু সন্তানকে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।