বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করায় আলোচনা প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত প্রস্তাবটি পুনরায় ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এর জবাব পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
শনিবার (৩০ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প চুক্তির মূল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে চান। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগও বাধাগ্রস্ত।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একটি চুক্তির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত হতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক রোববার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের অধিকার সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত না হলে তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না। তিনি বলেন, “আমাদের শত্রুর কথায় আস্থা নেই। প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্জনই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হলে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজ বলেছেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি উভয় পক্ষের জন্যই কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প এবং তা ভবিষ্যতে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারে।
ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হলো— ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর শনিবার হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, বিদেশি বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজ নির্ধারিত নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
তবে ট্রাম্পের নতুন শর্ত এবং ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা