মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী, টঙ্গী, গাজীপুর: দেশের বাজারে হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং রান্নার গ্যাসের মূল্যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২০০ টাকার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম লাফিয়ে ২২০০ টাকায় পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বাজারের এই লাগামহীন অবস্থাকে অনেকেই ‘মগের মুল্লুক’ বলে অভিহিত করছেন।
আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম ও তিতাসের ভূমিকা
সিলিন্ডার গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের হলেও, বর্তমানের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিকট সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন সাধারণ মানুষকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে? সিন্ডিকেট নাকি কৃত্রিম সংকট, এর নেপথ্যে কারা রয়েছে তা জানতে চায় দেশবাসী।
বাজারের আগুনের আঁচ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
শুধু গ্যাস নয়, চাল-ডাল থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে চলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ: সমন্বয়হীনতা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকরী সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি বা সদিচ্ছা নেই বললেই চলে।
”মরার ওপর খাঁড়ার ঘা”—এই প্রবাদের মতোই বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, সবখানেই এখন একটাই আলোচনা—এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
সংশ্লিষ্টদের প্রতি জনগণের দাবি, দ্রুত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা।
সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনা এবং পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
দ্রব্যমূল্যের নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য শক্তি বা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা। দেশের এই অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বাঁচতে চায়। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে। অন্যথায়, জনরোষের দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।