স্টাফ রিপোর্টার : শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে পবিত্র রমজান মাস। সংযম, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির এক মাস পার করে এখন ঈদুল ফিতর উদযাপনের অপেক্ষায় গোটা মুসলিম উম্মাহ। বাজার, বিপণিবিতান ও গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই ঈদের আমেজ স্পষ্ট, তবে সবার নজর এখন এক জায়গায়—ঈদের চাঁদ।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে ঈদের দিন। এ প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বৈঠকে বসছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকেই নির্ধারিত হবে—দেশে ঈদ শুক্রবার নাকি শনিবার।
সরকারি সূত্র বলছে, ওইদিন সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপিত হবে। অন্যথায় রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়ে শনিবার (২১ মার্চ) পালিত হবে ঈদুল ফিতর।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বুধবার (১৮ মার্চ) বৈঠকে বসছে। তাদের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই শাওয়াল মাসের সূচনা ঘোষণা করা হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাসে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান। তার মতে, এ বছর রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ নির্ধারিত দিনে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম। সে হিসেবে আরব বিশ্বে ঈদ হতে পারে শনিবার, আর বাংলাদেশে তা আরও একদিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাসের যুগে এখনও কেন চাঁদ দেখার বিষয়টি এতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সময় এসেছে। এতে যেমন বিভ্রান্তি কমবে, তেমনি জাতীয় জীবনে পরিকল্পনা গ্রহণও সহজ হবে।
ইসলামিক বর্ষপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মাস হয় ২৯ বা ৩০ দিনের, যা সম্পূর্ণ নির্ভর করে চাঁদের গতিপথের ওপর। ফলে প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় ঈদের সময় এগিয়ে আসে প্রায় ১০ দিন করে।
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত সামনে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে চাঁদের এক ঝলক দেখা যাওয়ার ওপর। আর সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।