বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট, ওয়াশিংটন/তেহরান, ৩০ মে : ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ শিগগিরই প্রত্যাহার করা হবে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানকে ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টোল বা মাশুল ছাড়া আন্তর্জাতিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রণালিতে থাকা সমুদ্র মাইন দ্রুত অপসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের বহু মাইন ধ্বংস করেছে। নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ফলে বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও তাদের গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে পারবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সহযোগিতায় উদ্ধার করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ। সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ এবং সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তিনি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
তেহরানের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ দাবি করে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একইভাবে হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত চলাচলের বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনাধীন খসড়া চুক্তিতে নেই।
ইরানের অভিযোগ, ট্রাম্প তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয় এবং লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গোপন করেছেন। এসব বিষয়ই চলমান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে চূড়ান্ত চুক্তি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা