আবুল হাসনাত তুহিন, ফেনী:- দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নোমানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে তথ্যবিহীন অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব গুজব ছড়িয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্র ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওসি নোমান একজন পেশাদার কর্মকর্তা।ওসি নোমান দাগনভূঞা থানায় যোগদানের ৪ মাসের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং দমন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারে তার নেতৃত্বে পুলিশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
দাগনভূঞা এলাকাবাসীর অনেকেই জানান,দীর্ঘদিন পর থানার কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওসি নোমান আসার আগে দাগনভূঞাতে ব্যাপক আয়ন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতো। বর্তমানে তিনি আসার পর আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।ওসি নোমানের সাথে যে কোন বিষয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ রয়েছে যাহা বিগত আমলে এমনটাই দেখা যায়নি। বর্তমানে নিয়মিত অভিযান এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে অপরাধপ্রবণতা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, যারা বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা পেতে অভ্যস্ত ছিলেন একসময় কিন্তু বর্তমানে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তারাই মূলত এই অপপ্রচারের সাথে জড়িত। তাদের উদ্দেশ্য হলো পুলিশের চলমান কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা।
সম্প্রতি কিশোরগ্যাংগ এ-র ৮ সদস্যকে থানা হেফাজতে এনে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন ফেক আইডিতে একটি মহল। তার সত্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, কিশোর গ্যাং
সদস্যদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করলে ১/সিয়াম(১৪) এ-র বাবা- সজুন, ২/মো:সায়মন (১৫) এ-র মা- সাবিনা,৩/আব্দুল্লাহ আল-অভি(১৪) এ-র বাবা- জাহাঙ্গীর আলম,৪/মো: রাহাদুল ইসলাম রুমন (১৫) এ-র মা- রেহানা আক্তার, ৫/ একরাম হোসেন হৃদয়( ১৫) এ-র বাবা- মোশাররফ হোসেন,৬/ আলিফ মাহমুদ (১৬) এ-র মা- মনোয়ার বেগম, ৭/ মো: আবু বক্কর রফিক( ১৫) এ-র বাবা- আজিজ রা” জানান, থানা থেকে আমাদের ছেলেদের বিষয়ে কল করে জানানো হলে, আমরা থানায় উপস্থিত হই,থানা কর্মকর্তারা আমাদের ছেলেদের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না পেয়ে, কোন প্রকার টাকা পয়সা না চেয়ে, হয়রানি না করে আমাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেন। থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন একটি মহন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবকরা আরো জানান, বর্তমান ওসি অত্যন্ত ভালো মানুষ, তিনার আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আমাদের ছেলেদের হয়রানি ছাড়া ফিরে পেয়েছি, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতেছি কিছু মহল ওসির বিরুদ্ধে কুৎসা রড়াচ্ছে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। তিনার সহযোগিতায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে।আমরা তার সফলতা কামনা করছি।
এদিকে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রতিটি থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের একটি কপি নিয়মিতভাবে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে হেল্প ডেস্ক থেকে অভিযোগকারীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়।এই প্রক্রিয়াটি পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘুষ বা অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরো মনে করছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ আগের তুলনায় আরও বেশি পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এর প্রতিফলন সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার মধ্যেও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করা জরুরি। গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
থানার এসআই বলরাম চন্দ্র পাল বলেন, আমরা ওসি নোমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালো। আগের মতো চুরি, ডাকাতি, গরু ও ট্রান্সফরমার চুরি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। আমরা জনগণের জান মাল নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ বদ্ধপরিকর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাগনভূঞা থানার ওসি তদন্তের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার অভিযোগ রয়েছে,সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে, বিশেষ করে ফেনী জেলা পুলিশের প্রতি, আমাকে দাগনভূঞা থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে জনগণের সেবায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
এই থানার ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। আমি বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সঠিক তদন্ত, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রতি পুলিশি সেবাকে আরো কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কে কি অপপ্রচার করছে তা আমার দেখার বিষনয়ন, দাগনভূঞা থানাকে একটি জনবান্ধব, সেবামূলক ও পেশাদার তদন্তের মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই আমার অঙ্গীকার। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি-!একটি নিরাপদ, সুশাসনময় ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে।
দাগনভূঞা থানার ওসি নোমান এ-র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান,পুলিশ চাইলেও শতভাগ মানুষকে খুশি রাখতে পারে না। যাদের আবদার রক্ষা করতে পারি, তাদের কাছে আমি প্রিয় একজন ওসি।যাদের অনৈতিক আবদার রাখতে পারি না, তাদের কাছে আমি প্রিয় নই। পুলিশ জনগনের বন্ধু, তা-ই আমি জনগণের কথা শোনার জন্য, কোন মাধ্যম ছাড়া আমার সাথে দেখা করার সুযোগ করেদি।আমি জেলা এসপি মহোদয়ের নির্দেশনায় ও আইন অনুযায়ী মানুষের মাঝে সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং যাবো, এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব।