দাউদকান্দি, কুমিল্লা, প্রতিনিধি : উত্তর হাসানপুরে হাবিবা নামের এক তরুণীর ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদী, গিয়াসউদ্দিন মিয়ার ছেলে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সে দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এমন জঘন্য অপরাধে রূপ নিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতাও সামনে এসেছে—ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে নানা ধরনের গোপন হুমকির মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদেরকে চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয়দের মতে, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতার কারণেই অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এছাড়া চিকিৎসা নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামনে এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাবিবাকে গৌরীপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হলেও, পরবর্তীতে তাকে সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে কিনা, সে প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে—এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রভাবশালী মহল বা তথাকথিত নেতা যদি অপরাধীকে রক্ষার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও জনমতের আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
এখন সময় নীরব থাকার নয়। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, সত্য তথ্য সামনে আনুন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসুন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করা। অন্যথায়, এ ধরনের ঘটনা সমাজে আরও ভয়াবহ বার্তা ছড়াবে।