নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দলটির গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দলের সভা—যেখানে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনেই বসবে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন—এমনটাই জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই ও নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্য প্রচেষ্টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিপুল সমর্থন পায় বিএনপি। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ শেষে বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদীয় দলের সভা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের প্রথম ধাপ। নির্বাচনে জনগণের যে রায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন বিজয়ী দলের ওপর। অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা—এসব ইস্যুতেই নতুন সরকারের প্রথম পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
বিএনপির জন্য এটি শুধু ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক দর্শন ও প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগের সময়। সংসদীয় দলের এই সভার মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে দেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়।