নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক সমীকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সৌজন্য ও সংলাপের বার্তা নিয়ে ইসলামী ধারার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তিনি বেইলী রোডে বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম–এর সঙ্গে, যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর আমির ও চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত।
রাজনীতির মেরুকৃত প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্য ও ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় তিনি সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান–এর সঙ্গে, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির। একই রাতে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নাহিদ ইসলাম–এর সঙ্গে, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে প্রার্থী দেয়, যা তাদের সাংগঠনিক বিস্তৃতি ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আলোচিত। সেখানে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এক লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পান ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও পারস্পরিক সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিরোধ ও ভিন্নমত থাকলেও সংলাপের দ্বার খোলা রাখাই গণতন্ত্রের শক্তি—এই বার্তাই সামনে আনছেন তারেক রহমান।
জাতীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সমীকরণ, সংসদে ইস্যুভিত্তিক সহযোগিতা এবং বৃহত্তর ইসলামী ভোটব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রা—সব মিলিয়ে এই বৈঠক নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সম্ভাব্য কৌশলগত যোগাযোগের সূচনা বলেই মনে করছেন।