জুলাই আন্দোলন: দুঃসময়ের মুখে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : আজ সমাজের অলিগলি ভরে আছে আইনজীবী, ডাক্তার, শিক্ষক আর তথাকথিত নেতা দিয়ে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—দুঃসময়ে সংখ্যার নয়, সাহসের প্রয়োজন হয়।
জুলাই আন্দোলনের দিনগুলো ছিল সেই সাহস যাচাইয়ের কঠিন সময়।
সেদিন বহু আইনজীবী থাকলেও আমরা একজন আইনজীবীকেও পাইনি—যিনি নোয়াখালী–১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনের মতো বুক চিতিয়ে বলতে পারতেন,
“আমাকে গ্রেপ্তার করুন, তবুও শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিন।”
সেদিন বহু ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও আমরা একজন চিকিৎসককেও পাইনি—যিনি দিনাজপুর–৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ডা. জেড এম জাহিদের মতো দেশব্যাপী আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতেন, জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।
সেদিন অগণিত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও আমরা এমন একজন শিক্ষক পাইনি—যিনি কুমিল্লা–৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর কন্যা সায়মা ফেরদৌসের মতো পুলিশি হুমকির চোখে চোখ রেখে বলতে পারতেন,
“একটা মারবেন—দশটা আসবো। দশটা মারবেন—লক্ষ আসবো। সারাদেশের মানুষ, মা–বাবা সবাই আসবে।”
আর সেদিন অসংখ্য নেতা থাকলেও আমরা একজন প্রকৃত নেতাকেও পাইনি—যিনি কক্সবাজার–১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো আন্দোলনের স্বার্থে তথাকথিত সমন্বয়কদের ডিভাইস পরিবর্তনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠাতে দ্বিধা করতেন না।
ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো—
জুলাই আন্দোলন যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে আজ ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, ডা. জেড এম জাহিদ কিংবা সাহসী সায়মা ফেরদৌসদের নাম হয়তো ফাঁসির মঞ্চে লেখা থাকত।
সুসময়ে লক্ষ লক্ষ নেতা পাওয়া যায়।
কিন্তু দুঃসময়ে একজন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন কিংবা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মতো নেতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
এই কারণেই ইতিহাস আমাদের একটি কঠিন শিক্ষা দেয়—
দেখেশুনে ভোট দিন।
মনে রাখবেন—
“সবার আগে বাংলাদেশ।”