শওকত আলী হাজারী।।
আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সমাবর্তনে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৬ জন স্নাতক এবং ১ হাজার ৯০০ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত হন ৬ জন এবং উপাচার্য পদকে ভূষিত হন ৯ জন শিক্ষার্থী।
সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা আখতার শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশীয় প্রাণী সম্পদ ও কৃষিভিত্তিক খাদ্যব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। দেশীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। নৈতিকতা, সততা ও দায়বদ্ধতার চর্চার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, গুণগত শিক্ষা, নৈতিকতা ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের সাফল্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. হেলালউজ্জামান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে। টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম জোরদারে সুশৃঙ্খল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিনিধি ও বিওটি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ ফারুক এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. জিনাত তারা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবর্তন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।