বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির স্পষ্টভাবে বলেছেন—জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না। এই বক্তব্য রাজনীতির মাঠে নতুন কোনো বিতর্ক নয়, কিন্তু প্রশ্ন তোলে জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বয়ান ও স্লোগানকে ঘিরে।
দশকের পর দশক ধরে যে দলটি “ইসলামী রাষ্ট্র”, “ইসলামী শাসনব্যবস্থা” ও “কুরআন-সুন্নাহর শাসন”কে তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে, সেই দলই আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সামনে গিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন জাগছে—তাহলে এতদিনের এই স্লোগানগুলো কি আদর্শের প্রতিফলন ছিল, নাকি শুধুই রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহৃত আবেগী শব্দমালা?
রাজনীতিতে কৌশল থাকা অস্বাভাবিক নয়। ভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভাষা ও বক্তব্যে সংযম থাকা প্রত্যাশিত। কিন্তু কৌশল আর দ্বিচারিতার সীমারেখা যখন মুছে যায়, তখনই বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়। ভোটের আগে এক কথা, ক্ষমতার পথে আরেক কথা—এই প্রবণতা কি জামায়াতের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
একদিকে দলটি নিজেকে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে ক্ষমতার সম্ভাবনা দেখা দিলে সেই আদর্শের বাস্তবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি করে। এতে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াত কি আদর্শের রাজনীতি করছে, নাকি ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান বদলাচ্ছে?
এই বক্তব্য শুধু একটি সম্প্রদায়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নয়, এটি জামায়াতের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। আদর্শের রাজনীতি হলে সেই আদর্শ সর্বত্রই স্পষ্ট থাকে। আর যদি আদর্শ পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়, তবে জনগণই বিচার করবে—এটি নীতি, না কৌশলের ছদ্মবেশ।