এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক অনিবার্য সত্য এখন স্পষ্ট—তারেক রহমান দেশে ফেরার পর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন তিনি। জামায়াত–এনসিপি জোটের অস্বস্তি ও নীরব হতাশা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। কারণ, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের রাজনীতির গতিপথ নতুন করে বাঁক নিয়েছে।
গণ–অভ্যুত্থানের পর দেড় বছর ধরে দেশে অনুপস্থিত থেকেও তারেক রহমান যখন দেশে ফিরলেন, তখন কার্যত সব আলো এসে পড়লো তাঁর দিকেই। দেশের সিভিল সোসাইটি, প্রধান সংবাদমাধ্যম, এমনকি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও পরিমিত নেতৃত্বের ফল।
প্রশ্ন উঠছে—এত দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক মাঠ প্রায় ফাঁকা থাকার পরও কেন জামায়াত–এনসিপি জনগণকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হলো? কেন তারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারলো না? এর উত্তর অন্য কোথাও নয়, নিজেদের রাজনৈতিক আচরণ, ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে। জনসম্পৃক্ত রাজনীতির বদলে বিভাজনমূলক বক্তব্য ও নেতিবাচক প্রচার কখনোই গণমানুষের ভরসা অর্জন করতে পারে না—এই বাস্তবতা আবারও প্রমাণিত হলো।
তারেক রহমান নিজেকে এমন এক নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যাকে বাংলাদেশের মানুষ একজন সম্ভাব্য রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে দেখতে চায়। তাঁর বক্তব্যে নেই উগ্রতা, নেই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি। বরং রয়েছে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট, কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। সংকটে জর্জরিত একটি দেশকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়—সেই ভাবনাই তাঁর রাজনৈতিক ভাষ্যের মূল সুর।
এই পরিমিত, দায়িত্বশীল ও সমস্যা-কেন্দ্রিক রাজনীতিই তারেক রহমানকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। আর এখানেই বিএনপির শক্তি—একটি পরিণত নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে নিজেকে জনগণের সামনে তুলে ধরা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাই বলা যায়, তারেক রহমানের মাইন্ডসেটই তাঁকে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক চরিত্রে পরিণত করেছে।