কলকাতা প্রতিনিধি : আজ ১লা জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়ে গেছে কলকাতায় জনসমুদ্র, পুরানো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানানো এবং বাজি ও আলোর রোশনাই সারা কলকাতা, সারারাত ধরে চলছে বাজির শব্দ বারুদের গন্ধ, আর মানুষের ঢল। বহু মানুষ সারারাত আনন্দে মুখর কলকাতা মহানগরীতে। কেউ কেউ বলেন আমরা ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যরাত্রি থেকেই রয়েছি ১লা জানুয়ারির আনন্দ কাটিয়ে ফিরবো। আবার কেউ কেউ ভোর থেকে বেরিয়ে এসেছেন আনন্দ কাটাতে।
১লা জানুয়ারির ভোর থেকেই মানুষ ভিড় জমতে শুরু করেছে কলকাতা মহানগরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ,এমনকি ব্রিগেড মাঠে, তাহার সাথে সাথে চলছে একে অপরকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। প্রায় মুখে মুখে শোনা গেল একে অপরকে বলে উঠছে- হ্যাপি নিউ ইয়ার২০২৬। এসএমএস এর মাধ্যমে একে অপরকে নতুন বছরে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, আবার কিছু ছেলে মেয়েদের দেখা গেল একে অপরকে গোলাপ ফুল দিয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাতে।
সকাল আটটায় ভিড় জমে উঠেছে, জাদুঘর, ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা, সিনেমা হল, এম কি বিভিন্ন দেব-দেবীর মন্দিরে। পরিবারের ছেলে মেয়েদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভেতরে ঢোকার জন্য এবং টিকিট কাটার জন্য।, বেলা যত গরিয়ে আসছে কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ভিড় তত বেড়েছে, কিন্তু ঢোকার টাইম নির্দিষ্ট বাঁধা থাকায়, অনেককেই দেরিতে এসে ফিরে যেতে হয়েছে ,কারণ সময়ের মধ্যে টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।, ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মনে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। আর জানান কি করব রাস্তা জাম থাকলে করার কিছু নাই, আজ সমস্ত জায়গাতেই লাইন দিয়ে টিকিট করতে হচ্ছে। ধারা মেট্টু চেপে আসছেন তাহাদেরও একই কথা, এত ভিড় ও লাইন মেট্রোতে দুটো তিনটে করে মেট্রো ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
নতুন বছরের আনন্দ একটা আলাদা, ছুটিটা কাটে বিভিন্ন আবে আনন্দ উপভোগ করে, আমাদের ক্যামেরায় এমনও ধরা পড়লো, অনেক বাড়ির ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে ঘোরাতে, আবার অনেক ছোট ছোট ছেলে মেয়েকে দেখা গেল নাগর, দোলায় দুলতে, আর নতুন দিন মানে বিভিন্ন খাবারের টেস্ট ও জীবে আনা জল । আবার কিছু কিছু পরিবারকে দেখা গেল বাড়িটিকে খাবার বানিয়ে এনে ব্রিগেড মাঠে বসে খেতে, একজন বলেই উঠলেন কি করব এতগুলো ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেরিয়েছি, এখানে যে জিনিসের দাম, তাতে কিনার মত সাধ্য আমাদের নাই, আমরা বাড়ি থেকে খাবার বানিয়ে এনেছি। ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো।
আর ৩১ শে ডিসেম্বর বড় দিন কে কেন্দ্র করে, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রশাসনের অফিসারদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো দর্শকদের সামলাতে। যাহাতে কোনরকম দুর্ঘটনা না ঘটে তাহার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা রেখেছিলেন। এবং দর্শকদের নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে পারাপার করার ব্যবস্থা করছেন।
রিপোর্টার , সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ