✍️ এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল, দাউদকান্দি, কুমিল্লা :
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা—যেখানে এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি, সেখানেই রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে উত্তপ্ত। বিশেষ করে ভাইস চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা, যা তৃণমূল পর্যায়ে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে মাঠের রাজনীতি—সবখানেই এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: কে হচ্ছেন দাউদকান্দির পরবর্তী ভাইস চেয়ারম্যান?
দলীয় একাধিক সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপে স্পষ্ট হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কয়েকজন তরুণ ও সক্রিয় নেতার নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে এনামুল হক সফর তালুকদার, আনোয়ার হোসেন আনন্দ এবং আসিফ কবির—এই তিনজনকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
রাজনীতির পুরনো ধারা ভেঙে এবার তৃণমূল নতুন মানদণ্ড দাঁড় করাতে চাইছে বলেই মনে হচ্ছে। কেবল পদ-পদবি নয়, বরং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি, দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এবং জেল-জুলুম সহ্য করার মতো ত্যাগ—এসবই হয়ে উঠছে প্রার্থী নির্বাচনের মূল বিবেচ্য বিষয়।
এনামুল হক সফর তালুকদারকে অনেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিশীল মুখ হিসেবে দেখছেন। সংগঠনের ভেতরে তার ধারাবাহিক সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ তাকে একটি শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন আনন্দ—যিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এবং দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পরিচিত—তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এছাড়া আসিফ কবির, তরুণ ও সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তৃণমূলের একাংশের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল হিসেবে দেখলেও, রাজপথে তার সক্রিয়তা তাকে পিছিয়ে দেয়নি—বরং আরও দৃশ্যমান করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাউদকান্দির এই নির্বাচন কেবল একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; এটি হবে তৃণমূল বিএনপির শক্তি, ঐক্য এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই দাউদকান্দির রাজনৈতিক মঞ্চে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা সহজে প্রশমিত হওয়ার নয়। এখন দেখার বিষয়—দলীয় হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কাকে আস্থা দেয় এবং তৃণমূলের প্রত্যাশার সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।