নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা, ১২ মার্চ ২০২৬:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী নেতারা ৫ ও ৬ আগস্ট আলাপ-আলোচনা করেছেন এবং যার উপস্থিতিতেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছিলেন, আজ সেই রাষ্ট্রপতিকেই অস্বীকার করা হচ্ছে—এটি স্ববিরোধী অবস্থান। তিনি বলেন, তাদের দলের দু-একজন সদস্য তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। তাহলে এই দ্বৈত অবস্থানের কারণ কী—সেটি তাদেরই ব্যাখ্যা করা উচিত।
তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ বর্জনের ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে বিকেলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ ও ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা অধিবেশন বর্জন করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
সংসদ থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী’ ছিলেন। তাই সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেন তারা।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও সংসদের কার্যক্রম অর্থবহ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথে এগোনো হবে।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।