নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষিত রাজনৈতিক স্পিরিট সমুন্নত রাখার প্রশ্নে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর উদ্যোগ। সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ প্রদান থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এ চিঠি প্রদান করেন বলে জানা গেছে। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শ বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদের উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়া জনমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
চিঠিতে বিকল্প সাংবিধানিক পন্থার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে অধিবেশন আহ্বান ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তার সাংবিধানিক ক্ষমতার আলোকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিঠি কেবল একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ধাপে ‘জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হওয়ায় এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নতুন সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।