ডেস্ক রিপোর্ট | আপডেট : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম দাবি করেছে।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি পৃথক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নিহত হন তিনি।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, পূর্বপরিকল্পিত এ হামলায় সরাসরি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার সময় তিনি সরকারি বৈঠকের প্রস্তুতিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গোয়েন্দা নজরদারিতে খামেনি ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের অংশগ্রহণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কমপ্লেক্সে অন্তত ৩০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, হামলার পর খামেনির প্রাসাদসদৃশ বাসভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকা পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, অভিযানের ধরন কিংবা সরাসরি কারা অংশ নিয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।
খামেনির মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।