নিজস্ব প্রতিবেদক| ঢাকা | ১ মার্চ –
অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের ইতিহাসে অনন্য এক মাসের সূচনা হলো নতুন প্রত্যয়ে। ১৯৭১ সালের এই মার্চেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বঞ্চনা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয় এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ—যার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এবারও মার্চ মাসজুড়ে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মাসের প্রথম দিন থেকেই রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উদ্যোগে সভা-সমাবেশ, আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কর্মসূচিতে মুখর থাকবে সারাদেশ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ বৈষম্য ও রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি আন্দোলনই জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে সুসংহত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বিস্ফোরিত রূপ নেয়। ২৫ মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও জনপদে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বাঙালির কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই বর্বরতা বাঙালিকে দমাতে পারেনি; বরং স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও অনিবার্য করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিঝরা মার্চ কেবল অতীত স্মরণের মাস নয়—এটি রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র, অধিকার ও জাতীয় মর্যাদা পুনর্মূল্যায়নেরও সময়। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে প্রশ্ন—মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং রাষ্ট্র কতটা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে। তাই ইতিহাসের এই মাস জাতিকে আবারও আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা দেয়।
অগ্নিঝরা মার্চের আহ্বান আজও স্পষ্ট—স্বাধীনতার অর্জন রক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা নিহিত।