নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে তার এই প্রথম কর্মদিবস ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।
সকাল থেকেই রাজধানীর প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১ নম্বর ভবনের সামনে এসএসএফ, পিজিআর, পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। ভবনসংলগ্ন এলাকা যানবাহনমুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভবনগুলোতে ইতোমধ্যে নামফলক বসানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে ১ নম্বর ভবন। নিচতলায় ফুলগাছ দিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই ভবনেই অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক—যা সরকারের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু হবে সকাল ১০টায় গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি নতুন সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন। এরপর রাজধানীর জিয়া উদ্যান-এ গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ কর্মসূচিকে দলীয় ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দুপুর ১টায় সচিবালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজ আদায় করবেন। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠককে নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনা পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন—নতুন নেতৃত্বে প্রশাসনিক গতি কত দ্রুত দৃশ্যমান হবে এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। সচিবালয়ে আজকের কর্মদিবস তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সময়ের কার্যকর সূচনার প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত