নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে পৌঁছালে নাহিদ ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।
সাক্ষাৎকালে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ডা. শফিকুর রহমান–এর বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি নাহিদ ইসলামের বাসায় উপস্থিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েই মূলত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর সংলাপের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার বার্তা বহন করে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোথাও কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে; তবে তা যেন প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ভিন্নমত ও ভিন্নদলের সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ২১২ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠকদের দল এনসিপি অর্জন করেছে ৬টি আসন।
নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা প্রশমনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপের এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার বিষয়, এই ইতিবাচক বার্তা কত দ্রুত বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার ভিত কতটা সুদৃঢ় হয়।