1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি: নিরঙ্কুশ জনরায়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা দুই আসনে তারেক রহমানের বেসরকারি জয়: রাজনীতিতে নতুন বার্তার ইঙ্গিত কুমিল্লা-৯ আসনে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ জয়, আবুল কালাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনেই জয়ী বিএনপি ঠাকুরগাঁও-১ থেকে মির্জা ফখরুল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত দাউদকান্দিতে ধানের শীষের জয়ধ্বনি, বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন খুলনা–৫ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত মিয়া গোলাম পরওয়ার গণ-অভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিশ্বমিডিয়ার নজর ফেনীর তিন আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই, নারী-তরুণ ভোটে সমীকরণ বদলের আভাস। ৫০ লাখ নয় সেই জেলা জামাত আমিরের ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা কামারখন্দে ‘ভোট কেনা’ অভিযোগে দুই জামায়াত নেতা বিতর্কে, একজনের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ভাইরাল

দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি: নিরঙ্কুশ জনরায়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে দলটি। ২৯৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে এখন পর্যন্ত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি—যা সরকার গঠনের সাংবিধানিক ন্যূনতম সীমা ১৫১ অতিক্রম করেছে অনেক আগেই।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১১টি আসনে। অবশিষ্ট ৪২টি আসনের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট।
শীর্ষ নেতৃত্বের জয়ে প্রতীকী বার্তা
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর দলের নেতৃত্বে তাঁর পূর্ণ অভিষেকের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছেন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি নতুন অধ্যায়?
২০০১ সালের নির্বাচনে সর্বশেষ নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার ইস্তফার মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। তারও আগে ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল দলটি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটি নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও ক্ষমতার মঞ্চে দাঁড়িয়েছে—যা নিছক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংগঠিত প্রত্যাবর্তন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রিত্বের দোরগোড়ায়
বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল—দল ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুই আসনে জয় তাঁর রাজনৈতিক বৈধতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। ২৭ নভেম্বর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে তৃণমূল রাজনীতিতে গোপন ব্যালট প্রথা চালু করা—তার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ ও বিতর্ক-সংকুল হলেও প্রভাবশালী।
২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি আনুষ্ঠানিক চেয়ারম্যানের স্বীকৃতি পান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দলের ভেতরে আবেগঘন শূন্যতা তৈরি করলেও, নেতৃত্বের প্রশ্নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দল ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।
সংসদীয় সমীকরণ ও বিরোধী রাজনীতির নতুন বাস্তবতা
সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। বিএনপি এককভাবেই সেই সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে জোট-নির্ভরতার চেয়ে একক নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো—জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। অতীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে থাকলেও এবার তারা স্বতন্ত্র বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদে অবস্থান নেবে—যা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
সামনে যে চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফেরা যেমন রাজনৈতিক বিজয়, তেমনি তা বিশাল দায়িত্বেরও সূচনা। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নির্বাচনোত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আস্থা ফিরিয়ে আনা—এসবই হবে নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জনরায় স্পষ্ট। এখন অপেক্ষা—এই রায় কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো—যার সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান কতটা কমানো যায় তার ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com