এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে দেওয়া বক্তব্যে কৃষি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরেছেন। কৃষকের স্বার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি জনবান্ধব ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, যা দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করে।
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনকালকে ‘উন্নয়নহীন’ আখ্যা দিয়ে মেগাপ্রকল্পের নামে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বেগম খালেদা জিয়ার আমলে সম্প্রসারিত হলেও বর্তমান সময়ে তা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবন, খাল খনন এবং পদ্মা নদী খননের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার রূপরেখা তুলে ধরেন।
পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পদ্মা ব্রাজ নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ, কৃষি ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি রাজশাহীর আম সংরক্ষণ, হিমাগার নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল গণতন্ত্র। আগামী ১২ তারিখের ভোটকে তিনি গণতন্ত্র রক্ষার সিদ্ধান্তের দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া জনগণের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন ও সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তার দল শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং সহিংস রাজনীতির পথে হাঁটতে চায় না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের শাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে রাজশাহীর এই জনসভা ছিল শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মঞ্চ নয়, বরং কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভাবনার একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা।