এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : শাহবাগ | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের আড়ালে দেশে আধিপত্যবাদ পুনর্বাসনের গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জুলাই মঞ্চ। দল হিসেবে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলাদেশ সুরক্ষা সমাবেশ’ থেকে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থিত জুলাই মঞ্চে আয়োজিত এই সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণহত্যার সহযোগী ও জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী জাতীয় পার্টিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া নতুন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
সমাবেশ থেকে আরও তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. দল হিসেবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা
২. শহীদ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচার
৩. নির্বাচনের আগেই ফ্যাসিবাদের সহযোগী আমলাদের রাষ্ট্রীয় চাকরি থেকে অপসারণ
জুলাই মঞ্চের নেতারা বলেন, জাতীয় পার্টি বহাল রাখা এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী আমলাদের পুনর্বাসনের ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। এই হুমকিরই পরিণতিতে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদ ওসমান হাদীকে জীবন দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শত্রুদের মোকাবেলা না করলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে বলেও সতর্ক করেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো বাংলাদেশি দল নয়। তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া মানেই আওয়ামী লীগের গণহত্যাকারী রাজনীতিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হলেও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করার মধ্যেই নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
জুলাই মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গেজেটপ্রাপ্ত ছাত্র প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম তালুকদার বলেন,
“২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু তার সহযোগীরা এখনো রাষ্ট্রযন্ত্রে বহাল রয়েছে। জাতীয় পার্টি ও ফ্যাসিস্ট আমলারা বহাল থাকায় শহীদ ওসমান হাদীর মতো যোদ্ধাদের জীবন দিতে হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো পরস্পরের সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করছে, যার সুযোগ নিচ্ছে পরাজিত শক্তি। জাতীয় পার্টিকে ব্যান করে পুনঃতফসিল ঘোষণা এবং সম্মিলিতভাবে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই মঞ্চের মুখপাত্র, জাবি সাবেক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সংগঠক সাকিব হোসেন বলেন,
“যে দেশে জাতীয় পার্টির বিচার হয়নি, সে দেশ এখনো নিরাপদ নয়। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি গভীর ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় পার্টি ও ফ্যাসিস্ট আমলাদের সাথে নিয়ে ঘোষিত নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রুদের সাথে যারা আপোষ করবে, জুলাই মঞ্চ জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। দল হিসেবে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নতুন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই মঞ্চের ছাত্র সংযোগ প্রতিনিধি নুরুজ্জামান ইমনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—
তাসমিয়া রহমান, জুলাই আন্দোলনের গুম ও জেল বন্দী আবু হানিফ, ঢাবি হল সংসদ নেতা ওয়াসির আল মাস্তুর, ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম, জুলাই যোদ্ধা আফিয়া আয়েশাসহ অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে জুলাই মঞ্চ স্পষ্ট বার্তা দেয়—
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের মাঠে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের পুনর্বাসন জনগণ প্রতিহত করবে।