নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্য যেকোনো দেশের আগে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
তারেক রহমান বলেন, “গত ১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি অভিযোগ করেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ করে প্রকৃত উন্নয়নের পথে দেশকে ফেরাতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৬ বছরে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। “ব্যালট ছিনতাই, নিশিরাতের নির্বাচন, আমি-ডামি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে,” বলেন তিনি। রাজনৈতিক ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গুম-খুন ও নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণের ভোট ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো হাজারো মানুষকে হত্যা ও গুম করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী কণ্ঠকে দমন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে লাখ লাখ মানুষের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। “একাত্তরের স্বাধীনতাকে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা রক্ষা করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামীরা স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। ৫ আগস্ট ছিল সেই সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন,” বলেন তিনি।
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও দেশি-বিদেশি নানা কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “টেক ব্যাক বাংলাদেশ কর্মসূচির অর্ধেক আমরা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করেছি—স্বৈরাচারমুক্ত দেশ উপহার দিয়েছি। গণতন্ত্রের পূর্ণ যাত্রা শুরু হবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর ন্যায়ভিত্তিক আদর্শে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার অতীতে নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। ভবিষ্যতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাবে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও উচ্ছ্বাসে সাড়া দেন। এর আগে, বেলা পৌনে ১১টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এই জনসভাকে ঘিরে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরেই বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। বুধবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় আলিয়া মাদরাসা মাঠ।
তারেক রহমানের সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিশ্চিত করা হয়েছে বহুস্তরের নিরাপত্তা।