কাজল ইব্রাহিম প্রতিবেদক : সত্যের পথে অবিচল থাকা মানুষদের সঙ্গেই থাকে আল্লাহর সহায়তা ও মানুষের আস্থা—এই বিশ্বাসকে পাথেয় করেই শতবর্ষের অভিযাত্রা পার করছে একটি আদর্শভিত্তিক ছাত্রসংগঠন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অসত্যের জয় ক্ষণস্থায়ী হলেও সত্যের বিজয় চিরস্থায়ী। সেই সত্য, নৈতিকতা ও আদর্শের আলোয় নিজেদের গড়ে তোলার প্রচেষ্টাই এই সংগঠনের শক্তি ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরেই মেধা, মনন ও শৃঙ্খলার এক স্বতন্ত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। শিক্ষা, গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় তাদের প্রস্তুতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং শালীন আচরণ সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত। দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসাবিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই আদর্শে গড়ে ওঠা মানুষের উপস্থিতি সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে।
গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রেও সংগঠনটির ভূমিকা আলোচনায় আসে। সমর্থকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন ও ব্যালটভিত্তিক নির্বাচনে তারা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য অবস্থান অর্জন করেছে। এই সাফল্যকে তারা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষানুরাগ ও গ্রহণযোগ্য আচরণের ফল হিসেবে দেখেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের সাফল্য দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থা ও আদর্শভিত্তিক ছাত্রচর্চার সম্মিলিত অর্জন বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সমর্থকদের মতে, কওমি মাদ্রাসার হাফেজ, মুফতি ও আলেমদের সঙ্গে ছাত্র ও ছাত্রী সংগঠনের শিক্ষার্থীদের নৈতিক সংযোগ এবং শালীন আচরণ এই ধারাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ছাত্রী সংগঠনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শালীনতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় বলে তাদের অভিমত।
আচরণগত শুদ্ধতাকে সংগঠনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা ও অশোভন আচরণ থেকে বিরত থাকা, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং যুক্তিনির্ভর ইতিবাচক বক্তব্যে বিশ্বাস করাই তাদের সাংগঠনিক সংস্কৃতি—এমনটাই দাবি সমর্থকদের। ব্যক্তিগত গৌরব নয়; বরং দায়িত্ববোধ, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক দৃঢ়তাই এখানে মুখ্য।
সংগঠনের ভেতরে বিভিন্ন পেশাজীবীর উপস্থিতিও আলোচনায় আসে। চিকিৎসক, অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানী, তথ্যবিশ্লেষক ও কোরআন গবেষকদের যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য, শালীন ভাষা ও আদর্শিক দৃঢ়তা শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে—এমন মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
সমর্থকদের অভিমত, শৃঙ্খলাবান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে তাদের শিক্ষক ও গুরুজনদের জ্ঞান ও আদর্শের গভীরতাও অনস্বীকার্য। মানুষের প্রকৃত পার্থক্য তৈরি হয় শিক্ষা, মেধা ও আদর্শের বিকাশে—এই বিশ্বাস থেকেই তারা মানবসমাজকে দেখেন।
তাদের মতে, আল্লাহর আইন ও কোরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করার প্রচেষ্টাই এই সংগঠনের মূল দর্শন। মানুষের ওপর নয়; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করেই তাদের পথচলা। দীর্ঘ ত্যাগ ও সাধনায় গড়ে ওঠা এই প্রজন্মকে তারা আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত হিসেবে বিবেচনা করেন।
ফুলের কুঁড়ি যেমন একসময় প্রস্ফুটিত হয়, তেমনি শিক্ষা, শালীনতা ও আদর্শের ধারায় গড়ে ওঠা এই ছাত্রসমাজও ধীরে ধীরে জাতির সামনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করছে। ভবিষ্যতে ন্যায়, শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো সমাজে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট ও সমর্থক মহল।