বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত মিলল শুক্রবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বৈঠক রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় গুলশানের নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্বসহকারে উঠে আসে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আধাঘণ্টার এই আলোচনায় শুল্কনীতি ও বাণিজ্য আলোচনার কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জেমিসন গ্রিয়ার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক ও বিনিয়োগনীতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারের সঙ্গে হওয়া আলোচনা ও সমঝোতায় বিএনপির সম্মতি রয়েছে। এ বিষয়ে দলের কোনো আপত্তি বা দ্বিমত নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রশ্নে একটি দায়িত্বশীল অবস্থানের বার্তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে দিল বিএনপি। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য বাস্তবতায় বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যে কেবল কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত—এই বৈঠক তারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।