দাউদকান্দিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল: এনসিপির কয়েক শত নেতাকর্মীর গণযোগদান
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলটি রূপ নেয় বিএনপির শক্ত অবস্থান ও রাজনৈতিক পুনরুত্থানের এক স্পষ্ট বার্তায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন এ কে এম লতিফ ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, নূর মোহাম্মদ সরকার, জসিম উদ্দিন আহমেদ, শাওগাত চৌধুরী পিটার, এ কে এম সাত্তার, কামাল হোসেন, সাইফুল আলম ভূঁইয়া, আহমেদ হোসেন তালুকদার ও সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপির প্রবীণ ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দ।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন খালেদা জিয়ার সাথে আমি ৪৮ বছর রাজনৈতি সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। জীবনে কারো সাথে আপোষ করে নাই। এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন তারেক রহমান বীরের মতো আসার কথা সে আসিয়াছেন প্রধানমন্ত্রীর বেশে।
বক্তারা কঠোর ভাষায় বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না—তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার প্রতীক। দীর্ঘ স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মুখেও তিনি কখনো আপোষ করেননি। তাঁর আদর্শ আজও বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর সংগ্রামের প্রেরণা।
দোয়া মাহফিল থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অপচেষ্টা আর চলবে না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, সুষ্ঠু নির্বাচন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা চায়—আর সেই দাবি বাস্তবায়নের একমাত্র শক্তি বিএনপি।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কয়েক শত নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বিএনপিতে যোগদান করেন। তারা ঘোষণা দেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপির নেতৃত্বেই তারা মাঠে থাকবেন। এই গণযোগদান দাউদকান্দিসহ পুরো কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শেষ পর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, দেশবাসীর মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।