নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনীতির ময়দানে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন বিভ্রান্তিমূলক ‘খেলা’ শুরু হয়েছে—এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে যে বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি এই অপপ্রচারকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পুনর্ব্যক্ত করেন—বিএনপির জন্ম ও রাজনীতি জাতীয়তাবাদী চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত; জাতীয়তাবাদের বাইরে অন্য কোনো চিন্তা বিএনপি করে না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, কিছু উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে কখনও তাঁকে, কখনও বিএনপিকে, আবার কখনও জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হচ্ছে। কয়েকজনের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, নির্বাচন যেন শুধু ঢাকা-৮ আসনেই সীমাবদ্ধ—মির্জা আব্বাসকে হারাতে পারলেই নাকি বিএনপিকে হারানো যাবে। এই ধারণাকে তিনি নাকচ করে বলেন, সারাদেশে যে জনসমর্থনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখতে পারলেই বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত জয় নয়—বিএনপির সামগ্রিক জয়ই লক্ষ্য। দেশের মানুষ নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় স্বাগত—কিন্তু উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবেন না। “ঝগড়া করবো না,” বলেও তিনি রাজনৈতিক শালীনতার বার্তা দেন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিদেশে বিএনপির বন্ধু আছে, প্রভু নেই। নির্বাচন প্রভাবিত করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিএনপির পোলিং এজেন্টদের সতর্ক করেন—নির্বাচনের দিন কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না; আইনগত ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে।
ঢাকা কেন্দ্রিক প্রার্থিতার প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন—যদি কেউ সত্যিই জনপ্রিয় হন, তবে নিজ এলাকায় নির্বাচন করছেন না কেন? অনেকেই নিজ এলাকায় ঢুকতে না পেরে ঢাকাকে বেছে নেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে আবেগঘন স্মৃতিচারণে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বাইরে তাঁর কোনো জায়গা নেই—এই অঙ্গীকার তিনি জীবনে ধারণ করেছিলেন। চিকিৎসা থেকে বঞ্চনা ও নানা নিপীড়নের মধ্যেও তিনি দেশের মাটিতেই বীরের মতো বিদায় নিয়েছেন। বক্তৃতার শেষভাগে তিনি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা অপশক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতেই হবে—দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই এখন সময়ের দাবি।