আজ ২রা জানুয়ারি শুক্রবার, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ও তথ্য সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালনায়, রবীন্দ্রসদন চত্বরে এবং মোহর কুঞ্জ মাঠে শুরু হয় ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত সংগীত মেলা ও পৌষ উৎসব ২০২৫ এর আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে রাত্রি নটা পর্যন্ত মঞ্চে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন , গান ,মেলা ও প্রদর্শনী ও পিঠে পুলি ।
১লা জানুয়ারি এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। বছরের প্রথম দিনে বিভিন্ন মঞ্চে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেও মানুষের ঢল এতটুকু কমেনি।
এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে, গগনেন্দ্র কর্মশালায় চলেছে নচিকেতা ঘোষ , সলিল চৌধুরী ও গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রদর্শনী। তাহাদের জীবনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিনেমায় যে সকল গান গেয়েছিলেন সেগুলি প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও মেলাতে মহিলাদের হাতের কাজের জিনিস, পিঠে পুলি থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী, এমনকি বিভিন্ন ধরনের খাবার মেলায় দেখা যায়। আর এই খাবার খেতে দর্শকদের ভিড় বেশ কিছু দোকানে চোখে পড়ে।
যেমন পৌষ উৎসব চলে মোহর কুঞ্জে ,বরিশা ক্লাব মাঠে, টালা প্রত্যয় পূজা প্রাঙ্গণে, তেমনি
সংগীত মেলার আয়োজন করেন একতারা মঞ্চ, রবীন্দ্রসদন থেকে শুরু করে অন্যান্য মঞ্চে।
এই সকল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় একক সংগীত , নৃত্য , আবৃত্তি, লোক সংগীত, সমবেত সংগীত, অন্যান্য সংগীত, তাহার সাথে সাথে পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্য।
শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত যে সকল শিল্পীরা মঞ্চে সংগীত ও আবৃতি ও নৃত্য , সঞ্চালনা করেছেন। তাহাদের মধ্যে ছিলেন,
শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্য, ইন্দ্রানী সেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মেঘদুত ব্যালে ট্রুপ, দেবশ্রী তরফদার, মৌ ভট্টাচার্য, অরিত্র দাসগুপ্ত, মিঠু ঘোষ, বৃষ্টি লেখা নন্দিনী, অংশুমান চট্টোপাধ্যায়, মানসী মুখোপাধ্যায়, শান্তনু রায় চৌধুরী, শ্রীপর্ণা আঢ্য, শ্রীতমা মুখোপাধ্যায়, সুমনা চক্রবর্তী,, কল্যাণী নুপুর ডান্স একাডেমি, সহ অন্যান্য একাধিক শিল্পী বৃন্দ।
এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে রবীন্দ্রসদন চত্বর থেকে শুরু করে মোহর কুঞ্জ মাঠ বর্ণ ময় হয়ে উঠেছিল , সংগীত প্রেমী মানুষের ও দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শকদের, এবং তার সাথে সাথে ভিড় জমিয়ে ছিল পেটুক রসিকদের, যাহারা বছরের প্রথম দিনটা মুখে সাদা না খাবার খেয়ে আনন্দ উপভোগ করলেন।
কয়েকজন বললেন, বছরের প্রথম দিন টা , একটু আলাদাভাবে কাটালাম ফ্যামিলি নিয়ে, রবীন্দ্র সদন চত্ত্বর এবং মোহর কুঞ্জ একটা সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়ে, বাড়ি ছেলেমেয়েদের নিয়ে একদিকে যেমন জিভে জল আনা খাবার অন্যদিকে শিল্পীদের গাওয়া সুন্দর সুন্দর সংগীত পরিবেশন। দুটো মিলিয়ে একটা অন্যরকম আনন্দ উপভোগ করেছি। অন্যান্য দিন হয় না। আর এই ধরনের খাবার সচরাচর বাড়িতে করা সম্ভব নয়, তাই সকাল থেকে এই পরিবারকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে।
রিপোর্টার , সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ