নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ১৪ মার্চ : বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সুস্পষ্ট জাতীয় কৌশল, আন্তর্জাতিক মানসম্মত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার রাজধানীর ক্লাব’৮৯ লিমিটেডে ‘পজিশনিং বাংলাদেশ ইন দ্য গ্লোবাল হালাল ইকোনমি: স্ট্র্যাটেজি, স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বেসরকারি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা EXPOPRO এই আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তুরস্কে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোসুদ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শাব্বির এ. খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে হালাল অর্থনীতি খাদ্য ও পানীয়ের পাশাপাশি ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস ও ইসলামি অর্থায়নসহ নানা খাতে বিস্তৃত একটি বহু ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, শক্তিশালী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশ এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের হালাল সার্টিফিকেশন কাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করা এবং খাদ্যের বাইরে ওষুধ, প্রসাধনী, চামড়াজাত পণ্য ও হালাল পর্যটনে রপ্তানি বহুমুখীকরণে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি একটি জাতীয় বাংলাদেশ হালাল অথরিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠন, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।