এ কে এম কফিল উদ্দিন সুমন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে ঘিরে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। তিন আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফেনীতে দলটির নেতাকর্মীরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও, প্রথমবারের মতো শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত ও এবি পার্টি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটাররা বড় নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফেনী-১: ঐতিহ্যের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনে ১২১টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩৩, নারী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।
এই আসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মভূমি হিসেবে বিশেষ পরিচিত। অতীতে তিনি টানা পাঁচবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন দলীয় কর্মসূচি ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
ফেনী-২: সদর আসনে বহুমুখী লড়াই
সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর ফেনী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-২ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ৪ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৩০, নারী ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন (ভিপি) ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সৃজনশীল প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জেএসডি, বাসদ (মার্কসবাদী), খেলাফত মজলিস, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণঅধিকার পরিষদ, আমজনতা দল ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
ফেনী-৩: সমন্বয় ও পরিবর্তনের প্রশ্ন
সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-৩ আসনে ১৬১টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ১৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৫, নারী ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন।
এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রার্থী। দলীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার মতে, সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়টি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাসদের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এ আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছেন।
নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং শেষ মুহূর্তের প্রচারণা—এই তিন বিষয়ই ফেনীর তিন আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।