📍 রাজশাহী, ২৮ মার্চ ২০২৬ : জনগণের আস্থা অর্জন এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের জনবান্ধব ও সংস্কারমুখী পুলিশিং গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী-এর প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। এ লক্ষ্যেই একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করুন। অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধের মনে আস্থা তৈরি করতে হবে।” পাশাপাশি পুরোনো পুলিশ আইন পরিবর্তন করে আধুনিক আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান—রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক বা প্রান্তিক কৃষক।
অনুষ্ঠানে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।
🏅 পুরস্কারপ্রাপ্তরা:
‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট একাডেমিক’: মোঃ ফাহিম ফয়সাল
‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’: মোঃ আরাফাত হোসেন
‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’: শাওন রেজা
‘বেস্ট শ্যুটার’: বাপী কুমার দাশ
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই ব্যাচে মোট ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিস এএসপি আহমেদ সাদমান সাকিব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলী হোসেন ফকির। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পাসিং আউট শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণে যোগ দেবেন।