বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (আমিরাত) সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল হামলা চালায় এবং সেটি আমিরাত থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে আমিরাতকে ‘তছনছ’ করে দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে গেছে এবং সম্ভাব্য স্থল হামলা যে কোনো সময় শুরু হতে পারে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে ধারণা করছে—শুধু মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি নয়, বরং আরও সক্রিয় সহায়তা দিচ্ছে আমিরাত। এমনকি নিজেদের কিছু আকাশ শক্তিও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বলে ইরানের গোয়েন্দা তথ্যের দাবি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে ইরান, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খার্গ দ্বীপ—যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, এতদিন তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও, আমিরাত থেকে সরাসরি স্থল হামলা হলে অবস্থান বদলাবে। তখন হামলা শুধু সামরিক বা গোয়েন্দা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সরকারি বেসামরিক অবকাঠামোও টার্গেটে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আমিরাতকে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
অন্য এক কর্মকর্তা দাবি করেন, নিজস্ব ও রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী—যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা “অত্যাসন্ন” এবং তা উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে আমিরাত বা বাহরাইন থেকে শুরু হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন